আকিজ গ্রুপ এর ইতিহাস ও আকিজ উদ্দীনের সফলতার গল্প।

 

আকিজ গ্রুপ এর ইতিহাস

আকিজ গ্রুপ এর ইতিহাস

আপনি হয়তো ভাবছেন ব্যবসা শুরু করবেন কিন্তু টাকা পাবেন কোথায়? যারা ব্যবসা শুরু করতে চায় তাদের কাছে এই প্রশ্নটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু টাকার থেকেও আপনার মনের ইচ্ছা শক্তিটা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আপনার ইচ্ছা শক্তির প্রতি অবিচল থাকলে আপনাকে যে বিষয়টি সাহায্য করবে তা হলো  ইনস্পিরেশন। ধরে রাখতে চাইলে দরকার হবে সফল ব্যক্তির সফলতার পেছনের গল্প জানার।তাই আজকে আপনাদেরকে শুনাবো আকিজ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা শেখ আকিজ উদ্দিনের জীবনের সফলতার গল্প/ আকিজ গ্রুপ এর ইতিহাস। 1942 সালে বাবার কাছ থেকে মাত্র 16 টাকা নিয়ে নিজ বাড়ি খুলনা থেকে কাছাকাছি মহানগর কলকাতার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। সেখানে গিয়ে আশ্রয় নেন শিয়ালদা রেল স্টেশন। সারাদিন ঘোরাঘুরি করছেন কাজের সন্ধানে আর রাত হলে স্টেশনের এক কোনায় কাগজ বিছিয়ে শুয়ে থাকবেন। তার সারাদিনের খাবারের জন্য ছয় পয়সার ছাতু এর বেশি খরচ করার সাধ্য ছিল না। এর মধ্যে স্থানীয় জাকারিয়া হোটেল মালিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ভদ্রলোক তাকে হোটেলে এক পাশে আশ্রয় দেন। 

আকিজ উদ্দিন ও চাকরির আশা ছেড়ে দিয়ে ব্যবসা চিন্তা করতে থাকেন। কিন্তু পুঁজির অভাবে তাও সম্ভব হয়ে ওঠেনি। অনেক ভেবেচিন্তে কমলালেবু বিক্রির
ব্যবসা শুরু করেন। অল্প পুঁজিতে বেশি লাভ তিনি পাইকারি দরে কমলা লেবু কিনে হাওড়া ব্রিজ এর আশেপাশে খুচরা বিক্রি করতে লাগলেন। এজন্য পুলিশকে দুই টাকা ঘুষও দিতে হতো।এর মাঝে তিনি আর একটি সুবিধাজনক ব্যবসা সন্ধান পেয়ে যান ভ্রাম্যমাণ মুদির দোকানের। সমস্যা হলো অন্যান্য দোকানদাররা ছোট ছোট মজার হিন্দি ছড়া বলে পণ্য বিক্রি করতেন আর তিনি একদমই হিন্দি জানতেন না। বাধ্য হয়ে ব্যবসার প্রয়োজনে হিন্দি শিখতে শুরু করলেন অল্প দিনে বেশ রপ্তও করে ফেললেন। মুদির ব্যবসা যখন বেশ জমজমাট তখন ঘটলো আরেক বিপদ। হঠাৎ একদিন পুলিশ তাকে ধরে নিয়ে গেল। বিচারে তিন দিনের জেল ও জরিমানা হলো সেটা ছিল তার জীবন সংগ্রামের উপর বড় রকমের আঘাত। জেল থেকে বের হয়ে রাগে অভিমানে কোন কিছু বিবেচনা না করে পুরো দোকানটি বিক্রি করে দিলেন। আবার সেই অনিশ্চিত যাত্রা তবে খুব বেশিদিনের না। পরিচয় হলো 1 বেশোয়ারি ব্যবসায়ীর সঙ্গে তাঁর হাত ধরেই পাড়ি জমালেন বেশোয়ারে। দোকান বিক্রি টাকাগুলো হাতে ছিল তাই দিয়ে আবার ফলের ব্যবসা শুরু করলেন। ব্যবসার সমস্ত ভাষা রপ্ত করে নিলেন এভাবে কেটে গেল আরো দুই বছর। তখন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ক্রান্তিকাল

 মোটামুটি 10 হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে বাবা-মার কাছে থাকবে বলে বাড়ি ফিরে এলেনন। কিন্তু সুখ বেশিদিন কপালে সইল না অল্প দিনের ব্যবধানে বাবা-মা দুজনই মারা গেলেন। তখন তিনি 19 বছরের তরুণ। ঠিক করলেন এবার যা করবেন নিজ এলাকায় করবেন। কিন্তু কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন না সেই সময়ে বিখ্যাত বিধুবীরের মালিক বিধুভূষণ এর ছেলে তার বন্ধু ছিল। সেই সুবাদে বিড়ি তৈরি করে বিক্রি ধারণাটি মাথায় আসে। 1952 সালে তিনি প্রথম বিড়ির ব্যবসা শুরু করেন। আরো দুজন কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে তিনি বিডি তৈরীর কাজে নেমে পড়েন। অল্পদিনের মধ্যে লাভের মুখ দেখলেনন। একই সঙ্গে বেজেরডাঙ্গা রেলস্টেশনের পাশে একটি মুদির দোকান প্রতিষ্ঠা করেন। 1954/55 সালের দিকে দোকানের মোট বিনিয়োগের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় 60 হাজার টাকা। হঠাৎ এক রাতে আগুন লেগে পুরো দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। সারা জীবনের সঞ্চয় হারিয়ে আবার পথের ফকির হয়ে গেলেন। কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও মনোবল হারাননি। তার দৃঢ় বিশ্বাস ছিল আবার শূন্য থেকে শুরু করবো উপরওয়ালা নিশ্চয়ই সদয় হবে। পরিচিতজনদের সহযোগিতায় আবার নতুন দোকান প্রতিষ্ঠা করলেন। সততা নিষ্ঠা আর একাগ্রতার ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর সময় লাগেনি। কিছুদিনের মধ্যেই লাখখানেক টাকার মালিক হয়ে গেলেন। একে একে প্রতিষ্ঠিত হয় আকিজ তামাক ফ্যাক্টরি, আকিজ নেভিগেশন, আকিজ জুট মিল, আকিজ ম্যাচ ফ্যাক্টরি সহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান। 2009 সালে প্রতিষ্ঠানটি 390 মিলিয়ন ইউরো কর প্রদান করেছে এবং সর্বোচ্চ করদাতা হয়েছিলেন। প্রতিষ্ঠান মোট বাজেটের 2% দেশের জন্য দান করেছেন। আকিজ গ্রুপ স্বাস্থ্যখাত, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে অর্থ প্রদান করেন। পাশাপাশি কিছু সেবামূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।বর্তমানে প্রায় অর্ধকোটি কর্মী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন। ছোটবেলায় দারিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের অসহায় অবস্থা খুব কাছ থেকে দেখেছেন। তাই সুযোগ পেলেই এলাকার সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করার চেষ্টা করতেন। তিনি বলেন সত্যি বলতে কি আমার তেমন কোন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিলনা। অক্লান্ত পরিশ্রম কঠোর অধ্যাবসায় আর সততাই আমাকে আজকের অবস্থানে পৌঁছে দিয়েছে। আমাদের পরবর্তী পোস্টটি  আপনি কোন সফল ব্যক্তির জীবনী সম্পর্কে জানতে চান তা কমেন্ট বক্সে লিখে জানান।আকিজ গ্রুপ এর ইতিহাস পোস্টটি ভাল লাগলে বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করে দিন। এই রকম অজানা তথ্য জানতে আমাদের ওয়েব সাইট clickoffice.club এর সাথেই থাকুন। ধন্যবাদ।

*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন