উত্তপ্ত সারাদেশ ! কক্সবাজার, গাজিপুরে পূজা মন্ডপ ভাঙ্চুর চলছে ! ও সিলেটে পুলিশের গাড়ি ভাঙ্চুর করলো জনতা

 

কুরআন অবমাননা

কোথাও কাউকে মানছে না সিলেটের জকিগঞ্জে পুলিশ ও বিক্ষোভ জনতার মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে ভাঙচুর করা হয়েছে ইউএনও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর নিজস্ব গাড়ি। 

এছাড়া সারা দেশের নানান এলাকায় আরও কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছ পোস্টিতে সারা দেশের পরিস্থিতি ও কুরআন অবমাননাকারী গ্রেপ্তারের সবশেষ আপডেট নিয়ে আলোচনা করব। এছাড়া বিশেষ কিছু বক্তব্য থাকছে তার জন্য পুরোটা সময় জুড়ে আমাদের সাথেই থাকুন। জকিগঞ্জের ঘটনাটি রাত আটটার দিকে কালিগঞ্জ বাজারের ঘটেছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও টিয়ার শেল ছুড়েছে। সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা উদ্দিন ও পুলিশ, জনতাসহ 35 থেকে 40 জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে মাইকিং করে এশার নামাজের পর বিক্ষুব্ধ জনতার ব্যানারে মিছিল বের করে। প্রায় তিন শতাধিক মানুষ দায়িত্বরত পুলিশের ওপর চড়াও হয় মিছিলকারীরা এরপর মিছিলটি মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গিয়ে ইউএনও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এর নিজস্ব গাড়ি রাখা দেখতে পেয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে। তবে হামলার সময় উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমি আক্তার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাকির হোসেন, আবুল কাশেম ইউনিয়ন পরিষদের ভেতরে অবস্থান করায় হামলাকারীদের কবল থেকে রক্ষা পান। 

এ ঘটনা নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জকিগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান উদ্দিন চৌধুরী জানিয়েছেন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে অগ্রগতির পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। আমরা কোনভাবেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হতে দেব না। এই ঘটনা যারা ঘটিয়েছে দাঙ্গা সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন কাজ করছে। ঘটনাস্থলে থাকা থানার সেকেন্ড অফিসার হাবিবুল বাশার জানান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বেশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট ছোড়া হয়েছে। পরিস্থিতি অনেকটা থমথমে রয়েছে পুলিশ সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আহতদের সঠিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে। ঘটনা কতটা সত্য সেটা নিজে থেকে জানা সম্ভব হয়নি তবে যে বা যারা এসব কাজ করছে মোটেও ঠিক করছে না। এরা আসলেই অদ্ভুত সব ইসলামী ধর্ম নিয়ে কোন বাড়াবাড়ি নেই। এতটা হিংস্র হওয়ার কোনো কারণ নেই এতে বরং ইসলামী প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তবে এসব কথা বলার আগে জানতে হবে কারা এসব করছে আশাকরি প্রশাসন প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করবে। সে যে ধর্মেরই হোক তার বিচার হউক। এরইমধ্যে কুমিল্লার ঘটনার জেরে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ ও কুলাউড়ায় বেশকিছু মন্দির ও পূজামণ্ডপে হামলা ভাঙচুরের পর বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। মন্দিরে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে কমলগঞ্জ থানার এয়ারদোৎস হাসান বলেন এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করেছেন। তারা বিজিবি শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাহবুবুল ইসলাম বলেন ধর্ম যার যার আনন্দ সবার। পূজার আনন্দ যাতে কেউ না করতে পারে সেজন্য জেলা পুলিশের পাশাপাশি 46 বিজেপি থেকে দুই উপজেলায় দুই প্লাটুন বিজিবি টহল শুরু করেছে। বিধর্মীদের ও নিরাপত্তা দিতে হবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হিসাবে মাহবুবুল ইসলাম স্যারের উপর সেই দায়িত্ব বর্তায়। উনার দায়িত্ব পালনের জন্য শ্রদ্ধা জানাই তবে ধর্ম যার যার আনন্দ সবার কথা কি মানতে পারলাম না।


যাই হোক রাত 8 টা থেকে 10 টার মধ্যে একদল লোক মুন্সিবাজার পূজামণ্ডপে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করে বলে কমলগঞ্জ উপজেলা পূজা উদযাপন কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র দাস জানান। এছাড়া বাসুদেবপুর পূজামণ্ডপ পতনঊষার ইউনিয়ন বৃন্দাবনপুর জগন্নাথ জিউর আখড়া পূজামণ্ডপ এবং বৈরাগীর ছক সর্বজনিন পুজা মন্ডপে ও বৈদ্যুতিক বাতি ভাঙচুর করা হয় বলে জানান তিনি মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সুনীল মালাকার ও রেজাউল করিম জানান। রামপুর সার্বজনীন পূজা মন্ডপ নারায়ণগড় একাডেমীর পূজামণ্ডপের ভাংচুরের শিকার হয়েছে। কমলগঞ্জ উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান রাম ভজন খইরি কালার ছাড়া চা বাগান পূজামণ্ডপের প্রতিমা ভাংচুরের সত্যতা নিশ্চিত করেন। কমলগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিকুল হক বলেন আমরা সবগুলো স্থান পরিদর্শন করছি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পূজামণ্ডপে নিরাপত্তা রক্ষায় সকাল থেকে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। একই সাথে শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করতে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। 


এদিকে গাজীপুরে তিনটি মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাংচুরের পর 20 জনকে আটক করেছে। পুলিশ গাজীপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার মোহাম্মদ জাহিদ হাসান জানান শহরের কাশিমপুর বাজার এলাকায় সকালে তিনটি মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয় এর মধ্যে একটি মন্দিরের সবগুলো প্রতিমা ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে। অন্য দুটি মন্দিরের প্রতিমা জোর করেছে। স্থানীয়দের ভাষ্য ঘটনাস্থলে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত থাকলেও তারা সামাল দিতে পারেনি। শতাধিক হামলাকারী লাঠিসোটা নিয়ে মন্দিরে হামলা চালিয়ে প্রতিমা ভাঙচুর করে ঘটনা সত্যি হলে এসব মোটেই ঠিক কাজ হচ্ছেনা। ইসলাম এই শিক্ষা দেয় নি কুকুর কামড়ালে তাকেও কামড়াতে যাওয়া ঠিক না। এদেশে কোরআন অবমাননা সঠিক বিচার হয়তো নাও হতে পারে। তবে একদিন না একদিন ঠিকই তো হবে আমাদের সেই দিনের অপেক্ষা করতে হবে। বিশৃঙ্খলা মানায়না, জেলা প্রশাসক এসএম তরিকুল ইসলাম বলেন মন্দিরের নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যদের জন্য তারা চিঠি দিয়েছেন। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানতে পেরেছি আনুমানিক 400 থেকে 500 লোক মন্দিরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করেছে। ইতোমধ্যে পুলিশ এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে 20 জনকে গ্রেপ্তার করেছে আর কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলায় পূজামণ্ডপ ও হিন্দু বাড়িতে হামলা ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িত সন্দেহে 9 জনকে আটকের কথা জানিয়েছে।


পুলিশ কুমিল্লার ঘটনার জের ধরে উপজেলার কাছারি মোরা শিলপাড়া পূজামণ্ডপ ও মগনামায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে পেকুয়া থানার ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান তিনি বলেন পেকুয়া সদরের বিশ্বাস পাড়া কেন্দ্রীয় জামে দুর্বৃত্ত মিছিল নিয়ে গিয়ে হামলার চেষ্টা চালায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গেলে হামলাকারীর সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে হামলাকারীরা গুলি ছোড়ে পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশও পাল্টা গুলি ছোড়ে একপর্যায়ে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে ছত্রভঙ্গ হয়ে পালিয়ে যায়। পুলিশসহ অন্তত 27 জন আহত হয় হামলাকারীরা গেটের সামান্য কিছু অংশ ভাঙচুর করল পূজামণ্ডপের ক্ষতিসাধন করতে পারেনি। ওসি বলেন এ ঘটনার পর আরও কয়েকটি জায়গায় দুর্বৃত্তরা খণ্ড খণ্ড মিছিল বের করে তারা সেখানে মোরা শিলপাড়া পূজামণ্ডপের এবং মগনামায় কয়েকটি হিন্দু বাড়িতে হামলা ভাঙচুর করে হামলার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ময়মনসিংহ জেলার পুলিশ সুপার মোঃ হাসানুজ্জামান রাতে পরিদর্শন করেন। আসলে সবগুলো ঘটনায় উৎসুক জনতা ঘটাচ্ছে। এটা বলা যাবে না কোনোভাবেই এখানে কোনো না কোনো third-party ঝামেলা করছে তবে সেটা কেউ বিবেচনা করছেনা উল্টো কোরআন অবমাননার ঘটনায়ও সকলের মুসলিমদের দেশে যেমন আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেছেন কুমিল্লায় ঘটনা ঘটেছে তা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। সুপরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ধ্বংস করতে ঘটানো হয়েছে। হিন্দু ধর্মের কোন মন্দিরে কোরআন রাখবে এটা পাগল ছাড়া কেউ বিশ্বাস করবে না। এটা রাখা হয়েছে দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্যই। হানিফ বলেন বিএনপি-জামায়াত জোটের ইন্ধনেই কুমিল্লায় এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে। বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ এজেন্সি মাঠে আছে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করার অপচেষ্টা কারীদের কঠোরভাবে দমন করা হবে আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সবশেষ জানিয়েছেন- এরই মধ্যে আমাদের গোয়েন্দা সংস্থা নিরাপত্তা বাহিনীর যেখানে যে বিশৃংখলা সৃষ্টি করে তাদের নিয়ন্ত্রণ করার জন্য ব্যবস্থা নিয়েছেন ।  কুমিল্লার দুঃখজনক ঘটনা যারা জড়িত তাদের অবশ্যই খুজে বের করব। এই ঘটনায় কতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন কুমিল্লায় কয়েকজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।


 সারা দেশে আরো কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া গ্রেপ্তার প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে যেখানে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে সেখানে গ্রেপ্তার হবে। আমরা চাই সুনির্দিষ্টভাবে যারা জড়িত ছিল কিংবা উস্কানি দিয়েছে তাদের গ্রেপ্তার করতে। অনেকেই ভিডিও দেখে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।


 পরিশেষে আপনার কাছে প্রশ্ন কুমিল্লায় যে বা যারা কোরান অবমাননা করেছে তারা অবশ্যই ভালো কাজ করেনি। তাদের কঠিন বিচার অবশ্যই হওয়া উচিত আবার এখন যারা এক এলাকার ঘটনার কারণে অন্য এলাকায় হামলা আক্রমণ করে পরিস্থিতি বিশৃঙ্খলা করছে। বিধর্মীদের এটা-সেটা ভাঙচুর করছে তারা কি প্রকৃত মুসলিম হতে পারে। প্রকৃত মুসলিম যারা ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে পারেনা। ইসলাম তো আমাদের এই শিক্ষা দেয় নি এমন কি হতে পারে না যে এখনো কোনো third-party ঝামেলা করে মুসলিমদের বদনাম করতে চাচ্ছে হতে পারে বলে মনে হল এ পোস্টটির কমেন্ট বক্সে লিখতে পারেন। না হলে আপনার ভাবনা জানিয়ে দিন। পাশাপাশি পোস্টটি  অবশ্যই  শেয়ার করে দিন। আল্লাহ হাফেজ 


*

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন (0)
নবীনতর পূর্বতন